ইরানের ইয়াং জার্নালিস্ট ক্লাব-এর তথ্যানুযায়ী, আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মন্তব্য করেছেন, “আমরা ‘ফাদার অব বোম্বস’ পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর্যায়ে রয়েছি। শত্রুর জন্য এটি একদম নতুন কিছু। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জিবিইউ-৪৩বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওবি)- যা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিতি- তার সঙ্গেই ইরানের নতুন এই অস্ত্রের তুলনা করেন।
তবে প্রস্তাবিত অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, এটি বোমা নাকি অন্য কোনো সমরাস্ত্র কিংবা কবে নাগাদ এটি উন্মোচন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি মোহেবি।
ইরানের ওপর ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন খবর প্রকাশ পেয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলায় তাদের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘এমওবি’ ফেলার কথা বিবেচনা করছে। প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের জিপিএস-নির্দেশিত এই বিধ্বংসী বোমাটি ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে প্রথম ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ও শক্তি বৃদ্ধির দাবি
আইআরজিসি মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা, ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ট্যাংকার চলাচলের মার্কিন দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মোহেবি। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথটি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল খুবই ব্যয়বহুলভাবে গোপন রুট ব্যবহারে করে ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরাতে পারছে, তবে এ ধরনের চালান মানে এই নয় যে প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি আরো দাবি করেন, সংঘাতের আগে পারস্য উপসাগরে ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সেগুলো প্রণালি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজে সফলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে এবং তা পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
তথ্যসূত্র: তুর্কি টুডে












