বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
The National Journal
জাতীয় রাজধানী রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ খেলাধুলা আন্তর্জাতিক বিনোদন ধর্ম ও জীবন শিক্ষা মতামত
ক্যাটাগরি
প্রচ্ছদ জাতীয় রাজধানী রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ খেলাধুলা আন্তর্জাতিক বিনোদন ধর্ম ও জীবন শিক্ষা মতামত লাইফস্টাইল তথ্যপ্রযুক্তি স্বাস্থ্য চাকরি বিশেষ প্রতিবেদন ভিডিও অপরাধ সচিবালয় ভ্রমণ সাহিত্য পরিবেশ ও জলবায়ু
ব্রেকিং
পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা• পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা• টিপটিপ করে জ্বলছে চুলা, কষ্ট হচ্ছে রান্না করতে• ৫৪ বছরে এইচএসসি পাস করে মজনু এখন সবার অনুপ্রেরণা• ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ• শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান ও সাংবাদিক রাজীব ঘোষ আটক• মনিরা মিঠু র অচেনা অতিথি• পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন• ফের ২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম এখন ২০৬০• আতঙ্কিত হবেন না, ৭০০টির মধ্যে ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধন পাবেন-গোলাম পরওয়ারকে শাহে আলম• পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা• পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা• টিপটিপ করে জ্বলছে চুলা, কষ্ট হচ্ছে রান্না করতে• ৫৪ বছরে এইচএসসি পাস করে মজনু এখন সবার অনুপ্রেরণা• ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ• শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান ও সাংবাদিক রাজীব ঘোষ আটক• মনিরা মিঠু র অচেনা অতিথি• পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন• ফের ২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম এখন ২০৬০• আতঙ্কিত হবেন না, ৭০০টির মধ্যে ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধন পাবেন-গোলাম পরওয়ারকে শাহে আলম•

৫৪ বছরে এইচএসসি পাস করে মজনু এখন সবার অনুপ্রেরণা

৫৪ বছরে এইচএসসি পাস করে মজনু এখন সবার অনুপ্রেরণা
বিজ্ঞাপন
বয়সের কাছে হার মানেননি তিনি। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গিয়েছিল শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন, কিন্তু মনের ভেতর বেঁচে ছিল বই-খাতা হাতে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এরই মধ্যে সংসার, সন্তান, ব্যবসা এবং পারিবারিক দায়িত্বের ব্যস্ততায় কেটে গেছে দীর্ঘ ৩২ বছর। তবুও মনের ভেতর থাকা সেই স্বপ্নপূরণে পুনরায় ফিরে এসেছেন শ্রেণিকক্ষে। আর সেই প্রত্যাবর্তনে মিলেছে সাফল্য।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভিটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দ আনোয়ার হোসেন মজনু। ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চলতি বছর তিনি জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার এই অর্জন এলাকায় আলোচনার পাশাপাশি অনেককে নতুন করে শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

মজনু পেশায় ব্যবসায়ী। বাবর নাম নিজাম উদ্দিন কাইয়ার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বরমী ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় তার শিক্ষাজীবনে ছেদ পড়ে। হতাশা থেকে পরের বছর আর পরীক্ষা দেননি তিনি।

এরপর জীবনের বাস্তবতা তাকে নিয়ে যায় অন্য পথে। শুরু করেন মুরগি পালনের ব্যবসা। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন কর্মজীবনে। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেটে যায় দীর্ঘ ৩২ বছর।

তবে শিক্ষাজীবনের সেই অসমাপ্ত অধ্যায় কখনো পুরোপুরি ভুলতে পারেননি মজনু। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে নেন সাহসী সিদ্ধান্ত। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়। একদিকে পোলট্রি ব্যবসা, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব; এর মধ্যেই সময় বের করে আবারও শুরু করেন নিয়মিত পড়াশোনা। বয়সের ভার কিংবা দীর্ঘ বিরতির ভয়—কোনোটিই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
সব বাধা পেরিয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মজনু। ফল প্রকাশের পর দেখা যায় জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, শিক্ষা প্রসারেও আগ্রহ রয়েছে মজনুর। বর্তমানে তিনি ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মজনু জানান, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং যারা নানা কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নেন তিনি। এখানেই থেমে থাকতে চান না। এবার স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পর্যায়ক্রমে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে চান। তার বিশ্বাস, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যে কোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।

ছেলের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা খাতুন। ছেলেকে আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসতে দেখে গর্বিত তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলে ভালো লেখাপড়া করছে, এটা সত্যিই গর্বের।’

মজনুর এই অর্জনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন শিক্ষকরাও। ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, ‘লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যে কোনো বয়সে শিক্ষালাভ করা একজন মানুষের অধিকার। মজনু কাইয়া একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য। আমরা তার ফলাফলে গর্বিত।’
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
সব খবর
শিক্ষা বিভাগের খবর
বিভাগের সব খবর